ঠুনকো অজুহাত
হায়, কত অধম আমি ভেবেছো!
ছিলো না তবে মাদুর্য ততোটা আমার মোনাজাতে।
আর তুমি অবশেষে জিতেই গেলে!
জিতে গেলে কোন এক ঠুনকো অজুহাতে।
ইচ্ছের দোলনা
ইচ্ছে থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ!
ইচ্ছে থাকলে মানুষ জয় করতে পারে এভারেস্ট,
বাতাসে ভাসমান, অথচ তুমুল বেগে তার ছুটে চলা!
বানিয়ে ফেলতে পারে কল্পনাতীত উড়োজাহাজ।
আবার পৃথিবীকে যোগ টেনে দিতে পারে ছোট্ট এক মোবাইল ফোনে,
কিংবা চলে যেতে পারে সুদূর চাঁদের বুকে।
ইচ্ছে থাকলে অবহেলা করতে পারে তোমার মতো,
আমার মতো ভালোও বাসতে পারে।
জগৎ! ইচ্ছের উপরে ভেসে থাকা এক দোলনা।
চাঁদ-পৃথিবী
তুমি আর আমি যেন চাঁদ-পৃথিবীর মতো!
তুমি মায়ায় আকর্ষিত করো,
আবার অবহেলায় ঠেলে দাও বহুদূর।
আমি চাঁদ হয়ে তোমাকে আবর্তন করি।
না তোমার নিকটবর্তী হওয়ার সাধ্য রাখি,
না তোমার মায়া আমাকে দূরে যেতে দেয়।
দেখা যায় আমরা পাশাপাশি চলছি,
অথচ কোনদিন এক হতে পারি নি!
বিদ্রুপ ভেসে যাবে
তোমরা দেখছো আমার অনুকূলে থাকা পরিবেশ,
তোমরা দেখছো আমার সময় যাচ্ছে খারাপ।
তবুও যারা আমার চোখে ধুলো হয়ে অশ্রু ঝড়াচ্ছো।
শুধুমাত্র সময়ের ব্যবধান!
একদিন দেখবে এই অশ্রু বিশাল সমুদ্র হবে।
ভাসিবে নিবে তোমাদের মতো ধুলো প্রবল স্রোতে।
সঙ্গে ভেসে যাবে তোমাদের সমস্ত বিদ্রুপ!
খোদার নিয়ামত
খোদা আমাকে দিতে পারতেন একটা পশুর জীবন।
বোবা পশু, যে চেনে না কে তার সৃষ্টিকর্তা!
কিংবা দিতে পারতেন একটা বন্দী বৃক্ষের জীবন।
যে ভ্রমণ করতে পারে না,
কিংবা পারে না খোদার বিশাল সৃষ্টির সৌন্দর্য নিতে।
কিন্তু খোদা আমাকে দয়া করে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ বানিয়েছেন,
যেন আমি খোদার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে পারি।
আমি শিখতে পারি, খোদাকে অনুধাবন করতে পারি।
অথচ আমি সব বুঝেও খোদার কৃতজ্ঞতায় হতাশ!
কিন্তু খোদা আমার খেদমত ভুলে যান নি।
সত্যিই তুমি তোমার খোদার নিয়ামত অশেষ।
তুমি কোন নিয়ামত অস্বীকার করতে পারো খোবায়েব?
স্মৃতির বাক্স
তোমার কাছে কারো বুকে মাথা রাখাটা প্রেম,
আর আমার কাছে শুয়ে শুয়ে তোমাকে ভাবাটা।
তুমি প্রেম বলতে বুঝো,
আলমিরা থেকে তোমার স্বামীকে শার্টটা খুঁজে দেওয়া।
আর আমি প্রেম বুঝি,
তোমার জন্যে কেনা না দিতে পারা কাঁচের চুরিগুলো!
যেগুলো আজও বন্দী আমার স্মৃতির বাক্সে।
অনিবার্য ভালোবাসা
জগতে অনিবার্য যা কিছু আছে,
আমার কাছে তার একাংশ তোমাকে ভালোবাসা।
কোন কারণ কিংবা বিনিময়,
আমার হৃদয় যেন কিছুকেই তোয়াক্কা করে না!
শুধু জানে, আমি তোমাকে ভালোবাসি।
যেমন জানি, জন্মালে মৃত্যু নিশ্চিত।
এখানে কেউ কোন কারণ খুঁজি না!
বৈশাখের আচমকা বৃষ্টি
কোনো এক বিকেলে আমি সম্পূর্ণ প্রস্তুতিহীন,
হঠাৎ এক পশলা শীতল হাওয়া ছুঁয়ে যাক আমায়।
কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই তুমি আসবে অঝোরে,
ঠিক বৈশাখের সেই আচমকা তীব্র বৃষ্টির মতো!
তোমার স্পর্শে যখন ভিজে যাবে আমার সমস্ত শরীর,
সব ত্রুটি ভুলে আমি ফের প্লাবিত হবো তোমার প্রেমে।