স্বার্থের খেলা
স্বার্থের খেলায় তুমিও আমাকে হারাতে পারো না!
আমার কাছে যদি দুটো আলাদা বিকল্প থাকে!
যার একটিতে আমি চাইলে কোনো বিপদগ্রস্তকে বাঁচাতে পারি।
এবং দ্বিতীয়টি হলো,
আমাকে সুযোগ দেওয়া হবে আমার শত্রুকে হত্যার।
তবে আমি দ্বিতীয়টাই সাদরে গ্রহণ করব।
আমি দেখতে তো মানুষের মতোই,
কিন্তু স্বার্থের খেলায় আমি পুরোটাই স্বার্থপর!
প্রাপ্য
ততটুকু সবারই প্রাপ্য,
যতটুকু থাকলে অন্যের দুয়ারে যেতে হয় না।
এবং প্রাপ্য একটা পিঁপড়েরও,
যেন খাদ্যের সন্ধানে পিষে যেতে না হয় কারও পায়ে।
প্রত্যেকটা অনুজীব এবং দরিদ্রের!
যে বলে, জীবন দেব, তুমিও ভাত দাও।
বেঁচে আছি?
মৃত্যু আর জীবনের স্বাদের তফাৎ বুঝো না?
তুমি তো দেখছি শ্বাস নিচ্ছো, হৃদস্পন্দনও চলছে।
তবে কেন অযথা চিৎকার করছো, খোবায়েব?
তোমার এই বাঁচতে দাও চিৎকারে বড্ড বিরক্ত লাগছে।
এমনকি তোমার ভেতরে থাকা আমারও!
জীবন্ত পদার্থ
প্রত্যেকেরই নাকি নিজের বলতে একটা দিন আসে।
আমিও অনেক লাঞ্ছনার জবাবে বলেছিলাম,
আমারও দিন আসবে, জবাব দেওয়ার দিন!
আমার জীবনে সে দিন আর আসল না।
আমি অনুভব করি নি সুদিনের তৃপ্তি কেমন।
যখন আমি আমার অর্থ খুঁজতে যাই,
যেন হতভাগার উদাহরণে জন্ম নেওয়া জীবন্ত কোনো পদার্থ!
উত্তর
তুমি চলে যাওয়ার পর অনেক ভেবেছি!
অনেকবার প্রশ্ন করেছি, উত্তর খুঁজেছি।
কী এমন অপরিপূর্ণতা?
কেন এত স্বপ্ন ভেঙে চলে যাওয়া?
প্রত্যেক সমীকরণের উত্তরেই ছিল, ভাগ্য!
ঠিক এখানেই তুমি আমার ছিলে না।
এরপর নিজেকে কত বুঝিয়েছি,
যার সম্পদ তার কাছেই চলে যাক!
দিনশেষে তবুও সবাই ভালো থাক।
প্রস্তুতি
আমি বৃষ্টি চাইলে, আমার প্রস্তুতি নিতে হবে বন্যার।
আমি যদি চাই কৃত্রিম, শ্রমহীন জগৎ,
হতেও পারি আমি কোনো যন্ত্র-দুর্ঘটনার শিকার।
আমি প্রেম চাইলাম তো —
আমার প্রস্তুত থাকা উচিত অপ্রেমে মৃত্যুর জন্য।
একইভাবে অযত্নে থেকেও কেন আমি স্বপ্ন দেখতে পারি না তীব্র যত্নের?
প্রস্তুতি সব বিষয়ে সমান প্রতিফল দেখায় না কেন?
আমার ঘর
যুদ্ধ কিংবা কর্ম —
মানুষ দিনশেষে ঘরেই ফিরে।
আমার ঘর তো তুমি, প্রিয়তমা!
তোমার থেকেই যদি আঘাতটা পাই,
সে যুদ্ধ শেষে আমি ফিরব কোথায়, বলো?
আমার যে নেই আর কোনো আশ্রয়স্থল!
দেয়ালের দোষ
আমার ভেতরের জখম এত তীব্র,
আমি বাহ্যিক ব্যথা আর অনুভব করতে পারি না।
আচ্ছা, ইটের দেয়ালের আর দোষ কী?
কেন তার প্রতি আমার এত ক্রোধ?
কেন তাকে এত আঘাত করি?
ব্যর্থ মানুষ
একবার আয়নায় তাকাই,
আরেকবার বামে দেখি, আবার ডানে।
পিছনেও তাকিয়ে দেখি।
যা দেখেছি, তা মস্তিষ্কে দারুণভাবে বর্ণনা করি।
আমি বুঝি,
আমার চারপাশে আমার মতো ব্যর্থ দ্বিতীয় কেউ নেই!
আমি কোথাও দেখি না এমন ব্যর্থ কাউকে,
যে হারতে হারতে নিজেকেও হারিয়ে ফেলেছে।
রিজিক
তোমার রিজিক লেখা হয়ে গেছে, খোবায়েব!
বৃথা যুদ্ধ বন্ধ করো।
যা কিছু তোমার আর যা তোমার রিজিক,
তা কেড়ে নেওয়ার সাধ্য কারো নেই।
এমনকি বৃহৎ প্রাণীরও নয়, অনুজীবেরও নয়।
যা হারিয়েছো, যা চলে গেছে,
তুমি ছিলে কেবলই রক্ষক।
এর বাইরে আর কিছুই না, একদমই না।
চেষ্টা করো, তবে নিজেকে অপব্যয় করো না!
হয়তো
আমি জানি না, কি হচ্ছে আমার সাথে।
কিন্তু যা হচ্ছে তা সাদরে মেনে নিই।
হয়তো ভাগ্য খারাপ,
কিংবা হয়তো খুব বেশিই ভালো!
লোহার পেরেক
আমার যোগ্যতা আমি জানি।
অনেকটা লোহার পেরেকের মতো!
ঘর বানতে কাজে লাগে,
কাজ শেষে বড্ড অপ্রয়োজনীয়।
সবাই ততোটাই ঘৃণাতে ছুঁড়ে মারে,
যেন আমি অপ্রত্যাশিত পায়ে বিঁধে গেছি।
সঙ্গী থেকে গল্প
কারো জীবন-মরণ সঙ্গী,
কাল তার কাছে একটা গল্পই শুধু।
সঙ্গী থেকে গল্প হওয়ার ধাপ খুব কাছে!
যতটা কাছে আমাদের মৃত্যু।
দুঃখ
আমার এই উৎফুল্লতায় অবাক কেন প্রেমিকা?
দুঃখ শেষ হলে সবাই উৎফুল্ল থাকে!
আর আমার দুঃখ ছিলে তুমি।
প্রেম-পঙ্গু
তুমি জানো, আমি জানি।
আর জানে না এই ছায়াপথের কেউ।
তুমি প্রেমের লোভ দেখিয়ে যুদ্ধে নিয়ে গেলে।
শহীদের লোভ দেখিয়ে করে দিলে পঙ্গু।
তখন আমার মনে হচ্ছিল,
এত নিঠুর এ প্রেম, এত অভিশপ্ত গল্প!
নেহাৎ মরে যাওয়াই বোধহয় উত্তম ছিল।
Tags:
অনুকবিতা