বিনিময়
বিনিময় ছাড়া কি আর এই জগৎ চলে?
যে লোকটা বলে,
আমার এই উপকারের কোন বিনিময় লাগবে না।
উপকারের বিনিময়ে সেও প্রত্যাশা রাখে!
প্রত্যাশা রাখে একটু আশীর্বাদের।
মানুষের সীমাবদ্ধতা
মানুষ চলে যায়।
তবুও স্মৃতিগুলো কেমন জড়িয়ে থাকে আষ্টেপৃষ্টে!
তবে মানুষের কি এমন সীমাবদ্ধতা?
সে কেন তার স্মৃতির মতো করে ভালোবাসতে পারে না?
যাকে ধরে রাখা যায় না,
তারই স্মৃতিগুলোকে আবার তাড়িয়ে দেওয়াও যায় না।
অঙ্গের মতো জুড়ে থাকে সমস্ত মস্তিষ্কে।
গন্তব্যহীন পাখি
উড়তে থাকো! আরও উপরে।
গন্তব্যহীন দিকবিদিক উড়ো যত পারো।
দিনশেষে যে পাখির আশ্রয়স্থল আছে,
তার কাছে তুমি হেরে যাবে আবারও।
যত্নের অভাবে ধুকে মরবে,
যেদিন ডানাতে আর থাকবে না এত জোর।
উড়তে জানলেই কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়ে যায় না!
তা খুব করে জানে উড়তে জানা অর্ধ-সমুদ্র পেরিয়ে যাওয়া পাখিও।
প্রাকৃতিক সে
তুমি কেরোসিনের গন্ধ ভালোবাসো বলতে পারো,
তোমার ন্যাপথলিনের গন্ধ ভালো লাগে।
তোমার ভালো লাগে পান্তা ভাতে শুকনো মরিচ,
তোমার ভালো লাগে রাবারের করা বেণি।
তুমি সব বলতে পারো, তোমার জাত যায় না।
তুমি সব বলো, তুমি প্রাকৃতিক।
শুধু তোমার বেকার প্রেমিকের পরিচয় দিতে জাত যায়।
মহলে তোমার গায়ে কলঙ্ক লেগে যায় আমার পরিচয়ে।
নির্বোধের চক্রান্ত
যে অনিষ্ট চায়, সে প্রকাশ্যেই ক্ষতি করুক।
ফাঁদ! এ তো কোনো নিশ্চিত সমাধান নয়।
হায় খোবায়েব, তাকে ক্ষমা করে দাও।
সে সত্যিই খুব নির্বোধ।
সে জানে না, ফাঁদ কখনো মনিবকে চেনে না।
একই ফাঁদে ঝুলে যেতে পারে তার নিজের গলাও।
স্রষ্টার আদালত
সবকিছুরই হিসেব হবে।
একদিন আমি বাদী, তুমি বিবাদী।
আরেকদিন তুমি বাদী, আমি বিবাদী।
আজ তুমি ঠকেছো, কাল হয়তো কাউকে ঠকিয়েছো।
যে তুমি গরিবের হক মেরে ধনীর কীর্তন গেয়েছো,
আবার তুমি নিজেও কারো কালো দৃষ্টির লক্ষ্যবস্তু হয়েছো।
স্রষ্টার আদালতে আমাদের আবার দেখা হবে।
জুয়া আর নারী
নারীর নেশা জুয়ার নেশার চেয়েও ভয়ংকর।
জুয়া কেবল অর্থ নষ্ট করে।
কিন্তু নারী অর্থের সাথে ধ্বংস করে দেয় দেহ, মন, ভবিষ্যত।
মায়ার পরিমাপ
মায়ার কোনো পরিমাপক আছে কি না জানা নেই।
তবে একদা আমি কারো মায়ায় পড়েছিলাম।
হঠাৎ স্থান শূন্য হয়ে গেলো,
আর দুঃখ এসে দখল করে নিলো বুক।
আমিও বুকে ব্রহ্মাণ্ডসম চাপ অনুভব করলাম!
হয়তো মায়ার পরিমাণ ততটুকুই।
Tags:
অনুকবিতা