তুমি তো পুরুষ
আমার অভিমানেরাও সেদিন —
অভিমান করে বাড়ি ফিরে গেছে।
তারা তখন বলছিলো,
তুমি তো পুরুষ! মানিয়ে নাও।
সুখের ধৈর্য
কষ্টগুলোর একটু একঘেয়ে লাগলেও পারতো।
সুখের ধৈর্য যতো কম, অন্তত ততোটা হলেও!
এ দুইয়ের মাঝে আমি বড় ক্লান্ত।
আপনজন
অশান্ত নদীর তীরে —
আমি শত্রুর সাথে বসেও আড্ডা দিয়েছি।
শত্রুর পকেট থেকে বের করে দেওয়া সিগারেট,
আমি তো এক কাপ চা —
সেটাও ভাগাভাগি করে খেয়েছি।
কিন্তু বাড়ি ফিরে দেখলাম,
আমার ঘরটা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
লোকমুখে শুনলাম,
আগুন দেওয়ার কাজ স্বহস্তে করেছে আমারই আপনজন।
মানসিক পতিতা
একজন শারীরিক পতিতা তবুও স্বীকার করে।
কিন্তু একজন মানসিক পতিতা —
সে নারী হোক কিংবা পুরুষ,
ক্রমাগত কেবল ধ্বংসই করে চলে!
নিজের এবং তার আশেপাশে আছে যতো জীবন।
ছন্নছাড়া
আমার কোনো স্বপ্ন নেই!
নেই কোনো মাইলফলক।
তীব্র বাতাসে একটুকরো কাগজকে দেখো।
আমি তার চেয়েও বেশি ছন্নছাড়া।
তার তো কোনো মোহ নেই।
কিন্তু আমি?
এভাবেও উড়ে যেতে পারছি না!
প্রয়োজনের পরে
আমারে তারা ভুলিয়া নাহি যায়!
মানুষ তো তবুও মৃত্যুর অপেক্ষা করে।!
মানুষ তো ভাবে,
আমি মরিলে হয়তো ভুলিয়া যাইবে।
কিন্তু আমার কেমন এক জীবন দেখো, খোবায়েব!
আমারে আজ প্রয়োজন না হইলে —
কাল আমারে মনে রাখার মতো মানুষ নাই!
লাভ-লোকসান
হারাবার মতো কিছুই আমার নেই!
আমার পুরো জীবনে নেই কোন লোকসান।
আমি এসেছি খালি হাতেই।
বরং আমি যা ভোগ করছি —
কিংবা অর্জন,
সবই আমার লাভ।
একটা মাসুম দিন
আমার একটা মাসুম দিন চাই।
আমি একদিনের জন্য নিষ্পাপ থাকতে চাই।
তবুও আমি পরীক্ষা করে দেখতে চাই।
আসলে সবই কি আমার কর্মফল —
নাকি খানিকটা ভাগ্যেরও কারসাজি!
লোক দেখানো
তোমার সাথে তাদের মিলে না!
কিন্তু ওদের যতোটা মিল তুমি চোখে দেখো,
আদতে তারাও ততোটা মিলে না।
অবাক হইও না খোবায়েব।
এ পৃথিবীটাই এমন।
এখানে যা তুমি দেখো —
তার অধিকাংশই শুধু লোক দেখানো।
Tags:
জীবন ও বাস্তবতার কবিতা