শিরদাঁড়া তবু সোজা করি।
ভাবি, সব ভুলে যাবো আর তাকেও ভুলে যাবো,
যার জন্যে আমি ধ্বংস করতে পারি দুনিয়া।
আমার তখন নিজেকে দানবীয় মনে হয়।
যেন নিমিষেই ধ্বংস করে দিতে পারি সবকিছু।
এমনকি প্রেম, ক্রোধ, অনুভব কিংবা স্মৃতিগুলোও।
খানিক বাদে বুকে টান লাগে।
আমি ভাবি, সেই স্কুলশিক্ষকের কথা।
যিনি আমাদের পাঠ দিতেন ধৈর্যের।
বলতেন, শিরদাঁড়া রাখো উঁচু।
গত মাসে তাঁর চাকরি গেলো,
গত সপ্তাহে চলে গেলেন তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী।
শুনেছিলাম, প্রেমের বিয়ে।
তবে প্রেমেও কি অন্য সবকিছুর মতো চাহিদা থাকে?
ঠিক কেন ছেড়ে গেলেন উনি?
যাক গে, ওদিকে না ভাবি আজ।
কিন্তু দুদিন বাদেই এলো তাঁর আত্মহত্যার সংবাদ।
সারাটা দিন নিজেকে প্রশ্ন করে গেলাম,
তাঁর কি শিরদাঁড়া ছিলো না, খোবায়েব?
তবে তিনি দাঁড়াতেন কিসে ভর করে?
নিজের ভেতর থেকে গুনগুন আওয়াজ শুনি।
কে যেন ডেকে বলে আমাকে,
শিরদাঁড়ার নীতিবাক্য শুনতে মধুর।
কিন্তু মানুষ বাঁচে হৃদপিণ্ডের হুকুমে।
হৃদয় যদি কারো ধ্বংস হয়ে যায় একবার —
তার শিরদাঁড়া সোজা রাখবার মতো শক্তি আর থাকে না।
তুমি হও দানব, অগ্নিমানব।
ভুলে যেতে পারবার অভিনয় করতে পারো যতোই।
দিনশেষে রাত নামে, আঁধারে তুমিও ব্যথা পাও।
সেই তুমিই আসল তুমি, বাকিসব নাটক।
মনকে ব্যথা দিও না। তাকে দাও, যা সে চায়।
আত্মসম্মান গুরুত্বপূর্ণ, তবে দেখাও ততটুকুই —
যাতে শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারো।
যাও তবে, গুছিয়ে নাও সমস্ত অগোছালো বিষয়গুলো।
কে জানে, হয়তো এই উপলব্ধি তার জন্যেও প্রযোজ্য।
— শিরদাঁড়ার গপ্পো
Tags:
জীবন ও বাস্তবতার কবিতা