মা
আমার খোদা জানেন, খোদা জানেন,
আমি কতো আতঙ্কিত ছিলাম!
আমি সেদিন বলেছিলাম,
হে অধীনশ্বর, আমি যাবো না তোমার থেকে।
ওখানে আমার খেয়াল কে রাখবে,
কে আমাকে ভালোবাসবে, যত্ন নিবে।
অধীনশ্বর বলেছিলেন,
হে মানবসন্তান, আমিও তোকে বড্ড ভালোবাসি রে।
আমি তোর থেকে অনেক বেশি জানি বলেই —
তোকে তোর মায়ের গর্ভে বড় করছি।
আমার পরে সে দাত্রীই তোর যত্ন নিবে।
তুই ঋণী থাকবি, আমি আবার তোর থেকে হিসেব নেবো!
পুনরাবৃত্তির হিসেব।
অস্থায়ী
যদি আমার ক্ষমতা চিরস্থায়ী না হয়,
আমি চির-মজলুমও নই।
যদি আমার সুসময় দীর্ঘস্থায়ী না হয়,
আমার অসময়ও ক্ষণস্থায়ী।
আমি এইটুকু বিশ্বাস তবুও রাখি।
যদিও বা মৃত্যু দূত ডেকে নেয়,
পরপারে আমার প্রাপ্য বুঝে নেবো কর্তার থেকে।
যদি ভালোবাসতে
কেউ কেউ কথা রাখে।
যেমন কথা রাখে বয়স।
কথা রাখে দিন কিংবা রাত।
কথা তো মৃত্যুও রাখে।
কথা রাখে সেও, যে ভালোবেসেছে।
তুমিও রাখতে, যদি ভালোবাসতে।
নদী
তুমি একদম নদীর মতো।
এক পাশে তীর গড়ে তোলো,
অন্য পাশে আবার ধরাও দারুণ ভাঙন।
তোমার এক হাতে প্রেম,
অন্য হাতে অবহেলার পেয়ালা।
আর আমার জীবন জেলের মতো।
আমার জীবন যেহেতু তুমি কেন্দ্রিক,
তাই ভাঙা-গড়ার যুক্তিতে আমি তোমাকে ঘৃণা করতে পারি না।
কৃতজ্ঞ
যারা আমার সম্পর্কে বিদ্বেষ ছড়াতে চায়,
আমাকে নিয়ে অপমানজনক কথা বলে —
আমি তাদের কাঁধে রাখতে চাই আমার হাত।
আমি বলতে চাই,
আপনারা আমাকে নিয়ে ভাবেন, তা আমি জানি।
আমি জানি, আপনারা আমাকে অনেক সময় দেন।
আমি আরও জানি,
আমার প্রত্যেকটি ভুল আপনারা সূক্ষ্মভাবে ধরিয়ে দেবেন।
তাই নিজেকে নিয়ে আমি তেমন ভাবি না।
আপনাদের প্রতি সত্যিই আমি কৃতজ্ঞ।
Tags:
অনুকবিতা