সতীদাহ

যুদ্ধ


জীবন তো এক নীরব যুদ্ধ।
তুমি নির্বাচনী যুদ্ধে জয়ী হয়েই —
এই বিশাল ময়দানে যুদ্ধ করতে এসেছো।
এবার থেমে যেতে চাও, খোবায়েব?
তোমার সামনে এখন মাত্র দুটো পথ।
হয় বিজয়ী হও, কিংবা এখনই মাঠ ছেড়ে দাও!
তবে মৃত্যুকে গ্রহণ না করে আর পেছনে ফেরার পথ নেই।



কথা না রাখা


মানুষের কবর তার নিজেকেই ডাকাটা স্বাভাবিক।
কিন্তু আমার কবর তো তোমাকেই ডাকে!
তোমাকে ডাকে শুধু এটুকু বলতে,
তুই যাকে পরম যত্নে রাখবি বলে আগুনে ঠেলে দিলি,
দেখ, আমি তাকে আমার বুকে জায়গা দিচ্ছি।
তুই কথা রাখতে না পারলেও —
আমি তো আর আমার কথা ফেলে দিতে পারি না।
আর না পারি তাকে ফেলে দিতে,
যার ঠাঁই হওয়ার কথা ছিল তোর বুকে!



দুঃখের পরিচয়


আমরা খুব ভালো করেই জানি,
জীবন স্বহস্তে লিখিত কোনো উপন্যাস নয়।
আরও ভালো করেই জানি সময়কে।
না সময় আমাদের মর্জিমাফিক চলন্ত কোনো ট্রেন!
তবু জীবনের দুর্ঘটনাগুলোকে আমরা মেনে নিতে চাই না।
দুঃখ বলতে আসলে কিছুই নেই!
মূলত আমরা জীবন এবং সময়কে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হই,
আর নিজেরাই সে ব্যর্থতাকে দুঃখ নামে ডাকি।



একান্তের একান্ত


এবং তুমি ভেঙে গেছো!
তোমার বুক ফেটে কান্না আসছে,
আর তোমার চোখের নিচে দৃশ্যমান এক আস্ত উপন্যাস।

কাউকে বলার প্রয়োজন নেই,
কাউকে জানানোর প্রয়োজন নেই!
এ ব্যথা, এ অনুশোচনা একান্তের একান্তই থাকুক।
যদি কারো জানার থাকতো,
সে নিজেই এতোক্ষণে জেনে যেতো।
হয়তো মুছেও যেতো তোমার সমস্ত গ্লানি।



সতীদাহ


মন চায় তো থাকো,
মন চায় তো চলে যাও!
চাইলে পরম যত্নে রাখো,
কিংবা শুরু হোক সতীদাহপ্রথা!
বলো, বিচ্ছেদে প্রেমিককেও পুড়িয়ে দেওয়া হবে,
যেমন শেষ করে দিয়ে যাও প্রেমিকের প্রেম!



শৈল্পিকতা


আমি মানুষের নাম মনে রাখতে পারি না।
এমনকি কারো চেহারাও না!
আমি মানুষকে মনে রাখি তার শৈল্পিকতায়।
প্রথম দেখাতেই তার আচরণ, মুখে উচ্চারিত শব্দ,
কিংবা চোখের ভাষা।
এরপর আমি বুঝতে পারি, সে কতটা শৈল্পিক।
এমনকি তার প্রতি আমার আচরণ কেমন হওয়া উচিত!



পাপ আর ভোগ


আমার বয়সের চেয়ে ভুলের সংখ্যা বেশি।
নিয়তিও আমাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয় নি!
আমার ভুলের চেয়ে ভোগও বেশি।
এক পাপের শাস্তি ভোগ করতে করতে দেখি,
অন্য বিপদ দরজায় দাঁড়িয়ে।



বোকার প্রেম


তুমি তাহার প্রতি যে প্রেম দেখাইলা খোবায়েব।
তুমি নিজের প্রতি তার খানিকটাও মায়া করলা না!
তোমারে প্রেমিক বলিবো, নাকি বোকা?
আমার বুঝে আসে না!
তুমি এত প্রেমিকই যদি হইলা,
তুমি তো তোমার খোদারেই ভালোবাসলা না!
তুমি মোহ চিনলা, তয় রূহ চিনলা না!



তোমার প্রেম


তোমাকে ঘৃণা করতে জন্মান্তর লাগতে পারে।
হতে পারে জন্মের পর জন্ম!
যদি উদ্দেশ্য হয় এটাই, তোমাকে ভুলে যাওয়া।
কিন্তু আমি যদি ভাবতে যাই,
কাকে ঘৃণা করতে আবার এসেছি?
যদি আমাদের আবার দেখা হয়ে যায়?
তোমার প্রেম! হায়, আমাকে কে ফেরাবে আবার?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
DMCA.com Protection Status